অ্যাপেনন্ডিক্স (Appendix) হল দেহের একটি অংশ বিশেষ । যেটি ছোট নলাকার একটি অঙ্গ যা বৃহদন্ত্রের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটি লম্বায় ২-২০ সে.মি.। কোনো কারণে অ্যাপেনন্ডিক্সের মধ্যে ইনফেকশন হলে এটি ফুলে যায়, প্রদাহ হয়, তখন একে বলা হয় অ্যাপেনডিসাইটিস। তলপেটে হঠাৎ করে ব্যথা উঠলেই অনেকে মনে করে থাকেন অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা, তবে সাধারণত অপেন্ডিক্সের ব্যথা পেটের ডান দিকে নাভির নিচে হয়ে থাকে কারণ এটি ওই স্থানে অবস্থিত। যদি অপেন্ডিক্স ধরাও পড়ে, সে ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে "অপারেশন দরকার" আসলে কথাটা সঠিক নয়। পেটে ব্যথা অ্যাপেনডিসাইটিস ছাড়াও বহুবিধ কারণে হতে পারে। ওষুধের মাধ্যমেও পেটের ব্যথা থেকে নিরাময় হওয়া যায় অনেক ক্ষেত্রে।
অ্যাপেনন্ডিক্স (Appendix) এর উপসর্গ :
সাধারণত প্রথমে ব্যথা নাভির চারপাশে অনুভব হয় এবং কয়েক ঘণ্টা পর ব্যথাটা তলপেটের ডান পাশে চলে আসে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে পেটের অন্য অংশেও ব্যথা হতে পারে।
১. বমি বমি ভাব হতে পারে।
২. বমিও হতে পারে।
৩. অরুচি হতে পারে।
৪. পাতলা পায়খানা হতে পারে এবং
৫. জ্বর হতে পারে।
প্রধান লক্ষণ হল পেটে একটানা ব্যথা, যেটা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ব্যথাটা সাধারণতঃ নাভির চারদিকে থেকে শুরু হয়, কিছুক্ষণের মধ্যেই নাভির নিচে ও ডানদিকে সরে যায়। খিদে কমে যেতে পারে, কাশি, কোষ্ঠকাঠিণ্য বা অল্প জ্বর হতে পারে।
কি ভাবে বুঝবেন আপনার অ্যাপেন্ডিক্স হয়েছ?
পেটের ব্যাথা হলেই কি নিশ্চিৎ যে অ্যাপেনন্ডিক্স হয়েছে? না! তার জন্যে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাপার থাকে। যেমনঃ রোগীকে কাশতে বলে দেখতে হবে পেটে তীব্র ব্যথা হয় কিনা। অথবা ধীরে ধীরে কুঁচকির একটু ওপরে জোরে চাপ দিন যতক্ষণ না একটু ব্যথা লাগে। তারপর চট করে হাতটা সরিয়ে নিন। তলপেটের বামদিকে সমানভাবে চাপদিলে পেটের মধ্যে নাড়িভুঁড়ি বাঁদিক থেকে সরে ডান দিকে যায়। যদি এর ফলে ডানদিকের তলপেটে একটা প্রচন্ড তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় তাহলে সম্ভবতঃ এপেনডিসাইটিস হয়েছে বলে বুঝতে হবে।
যদি বামদিকে কুঁচকির ওপর চাপ দিলে ডানদিকে ব্যথা না হয়, তবে ডানদিকে কুঁচকির উপর একই পরীক্ষা করবেন।
১. বমি বমি ভাব হতে পারে।
২. বমিও হতে পারে।
৩. অরুচি হতে পারে।
৪. পাতলা পায়খানা হতে পারে এবং
৫. জ্বর হতে পারে।
অ্যাপেনন্ডিক্স (Appendix) এর লক্ষণ:
যদি বামদিকে কুঁচকির ওপর চাপ দিলে ডানদিকে ব্যথা না হয়, তবে ডানদিকে কুঁচকির উপর একই পরীক্ষা করবেন।
অ্যাপেনন্ডিক্স (Appendix) এর চিকিৎসাঃ
এপেনডিসাইটিস হলে দেরী না করে সাথে সাথে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ অপারেশই এই রোগে চিকিৎসা।
0 মন্তব্যসমূহ