কিডনি পাথর কি? What are kidney stones?
কিডনি পাথর সমস্যা একটি জটিল সমস্যা। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরের জন্য প্রতিদিন ৩-৫ লিটার জল/ পানির প্রয়োজন হয়ে থাকে। আর এই পানিতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড যৌগের মাধ্যামে আমাদের কিডনি তে পাথরের সৃষ্টি করে। যাকে আমারা কিডনিতে পাথর বলে জানি।
Read also >>কি কি খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে?
কিডনি পাথর বিভিন্ন ধরনের কি কি? What are the different types of kidney stones?
বিভিন্ন চিকিৎসাবিদ, চিকিৎসা শাস্ত্র অনুসারে কিডনি পাথর মূলত চার ধরনের হয়ে থাকে। যথা-
ক্যালসিয়াম অক্সালেট (Calcium oxalate):
এটি কিডনির পাথরের একটি ধরন। যা গঠিত হয় যখন ক্যালসিয়াম প্রস্রাবে অক্সালেটের ( অক্সালিক অ্যাসিডের একটি লবণ বা এস্টার) সাথে যুক্ত হয়।
ইউরিক অ্যাসিড (Uric acid):
প্রস্রাবে খুব বেশি ইউরিক অ্যাসিড থাকলে এই ধরনের কিডনিতে পাথর তৈরি হয়। এটি পিউরিন সমৃদ্ধ খাদ্যের কারণে হয়ে থাকে, যা মূলত লাল মাংস, অর্গান মিট এবং শেলফিশ বা খোলাওয়ালা মাছ বা শামূখে পাওয়া যায়।
স্ট্রুভাইট (Struvite):
এই ধরনের কিডনিতে পাথর মূত্রনালীতে সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। এটি পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে।
সিস্টাইন (Cystine):
এটি একটি বিরল ধরণের কিডনি পাথর যা সিস্টিনুরিয়া নামক জেনেটিক ব্যাধির কারণে হয়। এটি মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে।
Read also >>কি কি খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে?
কিডনি পাথরের লক্ষণ/ কিডনি সমস্যার লক্ষণ/ কিডনি রোগের লক্ষণ/ কিডনি সমস্যা বোঝার উপায় (Symptoms of Kidney Stones/ Symptoms of Kidney Problems/ Symptoms of Kidney Diseases/ Ways to Understand Kidney Problems)।
বিভিন্ন চিকিৎসাবিদ, চিকিৎসা শাস্ত্র অনুসারে কিডনিতে পাথরের লক্ষণ গুলির আলোচনা করা হল। যথা-
- পাঁজরের নীচে, পাশে এবং পিছনে তীব্র ব্যথা অনুভাব করবে।
- তলপেটে এবং কুঁচকিতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভাব করবে।
- ব্যথাটি কখনো তীব্র, কখনো মৃদু ভাবে ওঠানামা করবে।
- প্রস্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালা অনুভাব করবে।
- প্রস্রাবের রঙ গোলাপী, লাল বা বাদামী লক্ষণীয় হবে।
- প্রস্রাব দুর্গন্ধযুক্ত হবে।
- স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বার প্রস্রাব করা বা অল্প পরিমাণে প্রস্রাব করা।
- বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া।
- জ্বর এবং ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা খুব বেশী থাকে।
- পা, গোড়ালি, মুখ ইত্যাদি অংশ ফুলে যাওয়া।
- পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
- সারা শরীরে ক্রমাগত চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, ত্বক শুষ্ক হতে পারে, তবে এই লক্ষণ গুলি মূলত সন্ধ্যা দিকে হয়।
কিডনির পাথরের সমস্যা দূর করার উপায় / কিডনিতে পাথর হলে কি খেতে হবে? Ways to eliminate kidney stone problems / What to eat if you have kidney stones?
কিডনির পাথরের সমস্যা দূর করার উপায় গুলি নিম্নে আলোচিত হল-
১) প্রোটিনঃ
খাদ্যে উপস্থিত প্রোটিন শরীরে কিডনিতে পাথর কমাতে সাহায্য করে। যেমন- পশুর মাংস, দুগ্ধ জাতিও খাবার, মুগডাল সহ অন্যান্য ডাল, মাছ ইত্যাদি।
২) জলঃ
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করতে হবে। জল/ পানিতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড যৌগের মাধ্যামে যেমন আমাদের কিডনি তে পাথরের সৃষ্টি করে তেমন পাথর তৈরির সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয়। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করতে হবে।
৩) ক্যালসিয়ামঃ
প্রতিদিন ক্যালসিয়াম জাতিও খাবার খাতে হবে। ক্যালসিয়াম পাথর হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে সাহায্য করে। সাধারণত দুধ, লাল মরিচ, পালং শাক, বাঁধাকপি, রাগি, চাল, গম, মিলেট ইত্যাদির মধ্যে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে।
৪) ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডঃ
আমারা কমবেশি সকলে জানি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অনেক উপকারে কাজে লাগে। কিডনিতে পাথর ডি-ফরমেসানে সহায়তা করে। চিয়া সিডস, শণ বীজ, আখরোট,বাঁধাকপি, মাছ ইত্যাদিতে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তাই এই সকল খাদ্য খাওয়া শরীরে জন্য খুব উপকারি।
৫) ভিটামিন-ডিঃ
ভিটামিন ডি একটি পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম স্তর যা শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং পাথর ফরমেসান রোধ করে।
৬) খাদ্য পরিহারঃ
বেশকিছু খাবার এমন আছে যা আমাদের পরিহার করা উচিৎ যাদের পাথর সমস্যা আছে। যেমন- রুটি, গাঁজর, ক্যান্ডি, চকলেট, কফি ইত্যাদি।
Read also >>কি কি খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে?
কিডনি পাথর গলায় কোন খাবার? What food in the throat of kidney stones?
১) জলপান করাঃ
আমাদের শরীরে প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ১২ গ্লাস জলপান করতেই হবে। নাহলে বহু সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে। তার মধ্যে অন্যত্বম সমস্যা হল কিডনি স্টোন। কারণ শরীরে জলের ঘাটতি হলে মূত্র বেশি হয় না। সে কারণে মূত্রের ঘাটতি হবে, আর মূত্রের ঘাটতি হলে কিডনিতে জমতে পারে নানা খনিজ পদার্থ। যারদ্বারা কিডনি পাথর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী হয়ে থাকে। তাই জলপান করতে হবে নিয়ম মেনে সেটা শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা যাই হোক না কেন!
২. ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি খাওয়া প্রয়োজনঃ
মাশরুম, স্যালমন, দুধ, দই, চিজ, সবুজ রঙের শাক, টোফু, ডাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম থাকে যা কিডনি স্টোন কমাতে সাহায্য করে। আমরা জানি শরীরে ক্যালশিয়াম কম গেলে অক্সালেট বাড়তে পারে। আর এই অক্সালেট কিন্তু কিডনি স্টোন তৈরির অন্যতম কারণ। তাই ক্যালশিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া খুব জরুরী।
৩. সাইট্রাস ও ভিটামিন সিঃ
লেবু, আঙ্গুর, কমলা লেবু ইত্যাদি রয়েছে সাইট্রাস ও ভিটামিন সি যা, কিডনি স্টোন ছোট করতে বা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। আপনি জুস করেও খেতে পারেন। যেভাবেই খান ফল পাবেন। তাই এই খাবার অবশ্যই খান।
৪. ডাক্তারি পরামরশঃ
আপনি যদি অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্য কোন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নিতে হবে।
Read also >>কি কি খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে?
কিডনিতে পাথর নিয়ে আপনার কিছু প্রশ্ন থাকতে পারে। FAQ
কিডনিতে পাথর কি বংশগত রোগ?
হ্যাঁ, কিডনিতে পাথর হওয়ার জিনগত প্রবণতা রয়েছে। যদি আপনার পরিবারের এমন ইতিহাস থাকে, তাহলে উপসর্গগুলি সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে।
জীবনধারা পরিবর্তন কিডনিতে পাথর প্রতিরোধ করতে পারে?
হাঁ, অবশ্য। । একটি সুষম খাদ্য গ্রহণ করা, হাইড্রেটেড থাকা এবং সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখা উল্লেখযোগ্যভাবে কিডনিতে পাথর গঠনের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।
কিডনিতে পাথরের সাথে যুক্ত ব্যথা কি অসহনীয়?
হাঁ, এই ব্যথার তীব্রতা পরিবর্তিত হয়, তবে কিডনিতে পাথরের ব্যথা প্রায়শই গুরুতর হয়ে থাকে।
কিডনিতে পাথরের প্রাকৃতিক প্রতিকার আছে কি?
কিছু ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে। যেমন- জল খাওয়া বাড়ানো এবং খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন, কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
ছোট কিডনিতে পাথর কি নিজে থেকেই যেতে পারে?
হ্যাঁ, ছোট পাথর প্রস্রাবের মাধ্যমে যেতে পারে। তবে, বড় পাথর হলে চিকিৎসার প্রয়োজন।
দয়া করে মনে রাখবেন যে এই আলোচনায় কিডনিতে পাথরের লক্ষণ, কারণ ইত্যাদি নিয়ে পরামর্শ গুলি প্রদান করা হল। আপনার এই সকল পরামর্শ গুলি যদি নিয়ম মেনে চলতে পারেন, তাহলে অবশ্য উপকৃত হবেন। তবে আমার স্বাস্থ্য ব্লগে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয় কিন্তু চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। তবে, আপনার যদি লিভারের সমস্যার সম্মুখীন হন তাহলে অবশ্য অনুগ্রহ করে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। আর এই সকল তথ্য বিভিন্ন নামী অভিজ্ঞ চিকিৎসকের এবং www.healthline.com, www.nhs.uk, www.webmd.com, দ্বারা উৎসায়িত ও তথ্য নির্ভর করে লেখা হয়েছে। এই সকল তথ্য আপনার যদি উপকারে আসে তাহলে আমাদের এই সকল প্রয়াস সফল হবে। যদি আপনাদের কোন আদেশ বা অনুরোধ থাকে অবশ্য করে কমেন্টে জানান। ধন্যবাদ।
.png)
.png)
.png)
.png)
.png)
0 মন্তব্যসমূহ