ব্রংকাইটিস (Bronchitis) কি?
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কমপক্ষে তিন মাস পরপর দুবছর অনবরত কাশিতে ভোগে। এই রোগটি সাধারণত অল্প সময়ের জন্য হয়, দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসেবেও এটি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র ব্রংকাইটিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ধূমপান। এছাড়া বায়ুদূষণ, ধুলাবালি এবং অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যা এই রোগের কারণ হিসেবে বিবেচিত। শ্বাসনালী থেকে সৃষ্ট কাশির সাথে বের হওয়া কফ বা থুথু প্রাথমিক অবস্থায় অপর্যাপ্ত ও আঠালো। কখনও কখনও কফের সঙ্গে রক্ত মেশানো থাকতে পারে।
ব্রংকাইটিস (Bronchitis) এর লক্ষণ কি?
- এক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার মতো বাচ্চা অত অসুস্থ হবে না। বাচ্চা মোটামুটি হাসি-খুশি থাকবে কিন্তু বুকে বাঁশির মতো আওয়াজ থাকবে। অল্প তাপমাত্রা বাড়বে। ১০০ থেকে ১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইট হতে পারে। প্রথমে নাক দিয়ে পানি পড়ে তারপর দু’একদিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
- ব্রংকোলাইটিস সাধারণত রেসপিরেটরি ভাইরাস দিয়ে বেশি হয়। তবে অন্য ভাইরাস যেমন ইনফুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফুয়েঞ্জা, এ্যাডিনো ভাইরাস দিয়ে হতে পারে।
- ২ মাস থেকে ২ বছর এর বয়স সীমা। তবে ৬ মাস থেকে ৯ মাস পর্যন্ত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এর প্রকোপ বেশি হয়।
ব্রংকাইটিস (Bronchitis) রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা :
- বাড়ীতে রেখে চিকিৎসা করাতে পারেন।
- নাক-গলা পরিষ্কার করতে হবে। বাল্ব সাকার ব্যবহার করতে পারেন।
- বেশি করে তরল খাদ্য খাওয়াতে হবে।
- নাকে নর্মাল স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।
- সাধারণত এ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে না। তবে বাচ্চার বয়স যদি ৩ মাসের নিচে হয় তবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। যদি নতুন করে বুকে বাড়তি প্রদাহ হয় বা তাপমাত্রা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায় তবে এ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে।
- শ্বাসকষ্টের জন্য সিরাপ স্যালবিউটামল বা বাষ্পায়িত স্যালবিউটামল ব্যবহার করা যেতে পারে।জ্বরের জন্য সিরাপ প্যারাসিটামল ব্যবহার করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, বাচ্চার বয়স যদি ৩ মাসের নিচে হয় বা বাচ্চা যদি বহুদিন ধরে এ্যান্টিক্যান্সার ড্রাগ খায় কিংবা বাচ্চা অন্য কোন রোগের কারণে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বেশ কিছুদিন ধরে সেবন করে সেক্ষেত্রে ব্রংকোলাইটিস আরো খারাপ হতে পারে। এমন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা উচিত।
- বিঃ দ্র:- যদি উপরিক্ত উপায় গুলি প্রয়োগের পর ও উপশম না হয় তাহলে অবশ্য হসপিটালে বা উচ্চতর চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হবে।
ব্রংকাইটিস (Bronchitis) কেন হয়?
- ব্রংকাইটিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ধূমপান। এছাড়া বায়ুদূষণ, ধুলাবালি এবং অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যা এই রোগের কারণ হিসেবে বিবেচিত। শ্বাসনালী থেকে সৃষ্ট কাশির সাথে বের হওয়া কফ বা থুথু প্রাথমিক অবস্থায় অপর্যাপ্ত ও আঠালো। কখনও কখনও কফের সঙ্গে রক্ত মেশানো থাকতে পারে।
- ব্রংকাইটিস দেহকে বিকল করে দেওয়ার মতো একটি রোগ এবং কখনও কখনও এ রোগে হূৎপিন্ড ও শ্বাসযন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ে। ঠান্ডা আবহাওয়া ব্রংকাইটিসকে বাড়িয়ে তোলে। এ কারণে পৃথিবীর শীতপ্রধান দেশগুলির তুলনায় ভারতবর্ষে এই রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে কম।
Read also ব্যথা এবং যন্ত্রণাকে বিদায় দিন
ব্রংকাইটিসের (Bronchitis) প্রতিরোধের উপায় কি?
- ব্রংকাইটিস একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি। এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায় সব ধরনের ধূমপান বর্জন করা এবং যানবাহন ও অন্যান্য কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
- তীব্র ব্রংকাইটিসের চিকিৎসায় সকল ধরনের ধূমপান বন্ধ এবং ঠান্ডা আবহাওয়া, ধুলাবালি ও ধোঁয়ার সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে এন্টিবায়োটিকের যথাযথ এবং সময় উপযোগী প্রয়োগ। এই রোগে শ্বাসকষ্টের ধরনের ওপর ভিত্তি করে কখনও কখনও অক্সিজেন গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।
%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%20(1).jpg)
%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%20(1).png)
%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%20(2).jpeg)
%20%E0%A6%95%E0%A6%BF%20(2).png)
0 মন্তব্যসমূহ