Heart Attack Symptoms: হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ-কারণ-প্রতিরোধের উপায়

হার্ট অ্যাটাক সম্পর্কে কমবেশি আমাদের সকলের ধারনা আছে। কিন্তু কেন বা কখন হয় জানেন? আর সারা বিশ্বে প্রতি বছরে হার্ট অ্যাটাক কত মানুষ আক্রান্ত হয়? বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) মতে সারা বিশ্বে ২০১৬ সালে প্রায়  ১৫২০০০০০ (১৫.২ মিলিয়ন) মানুষ হার্ট অ্যাটাক ফলে প্রান হারাচ্ছে। আর এখন সে সংখ্যাটা কনেকটাই বেশী বলাবাহুল্ল।

https://asopinions.blogspot.com/2019/10/Heartattack.html
হার্ট অ্যাটাকের কারন, হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, হার্ট অ্যাটাকের প্রতিরোধের উপায়

হার্ট অ্যাটাকের কারনঃ 


যখন হৃদপিণ্ডের কোনও শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে হৃদযন্ত্রের রক্ত চলাচলে বাঁধার সৃষ্টি করে তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। বয়সের কারণে, উচ্চ কোলেস্টোরলের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মেদ, মদ্যপান, মানসিক চাপ— এমনই একাধিক কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

হার্ট অ্যাটাক লক্ষণঃ

অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক হলেও তা সে ভাবে বোঝা যায় না। অসলে, কখনও কখনও বুকে কোনও রকম ব্যথা অনুভূত না হলেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ সব ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কিনা তা খুব বোঝা বেশ শক্ত! নিম্নে কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ আলোচিত হল-

১/ বুকে ব্যথা - চাপ চাপ ব্যথা, বুকের এক পাশে বা পুরো বুক জুড়ে ভারী ব্যথা
২/ শরীরের অন্য অংশে ব্যথা---মনে হতে পারে ব্যথা শরীরে এক অংশ থেকে অন্য অংশে চলে যাচ্ছে, যেমন হতে পারে বুক থেকে হাতে ব্যথা হতে পারে। সাধারণত বাম হাতে ব্যথা হয়, কিন্তু দুই হাতেই ব্যথা হতে পারে।
৩/ মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা।
৪/ ঘাম হওয়া।
৫/ নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসা
৬/ বমি ভাব হওয়া
৭/ বুক ধড়ফড় করা বা বিনা কারণে অস্থির লাগা
৮/ সর্দি বা কাশি হওয়া
৯/ বেশিরভাগ সময় বুকে ব্যথা খুবই তীব্র হয়, ফলে শরীরের অন্য অংশে ব্যথা অনেকে টের পান না।

হার্ট অ্যাটাকের হাত থেকে বাঁচার উপায় বা করণীয় কি?

১/ নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস করতে হবে যেগুলি হার্টের জন্য ভালো।
২/ জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হবে, নিয়মিত হাঁটা-চলা ও ব্যায়াম করা এবং সক্রিয় থাকতে হবে।
৩/ রাত্রে হালকা সহজে হজম হবে, সেরকম খাবার খেতে হবে।
৪/ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৫/ নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখতে হবে।
৬/ ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
৭/  চিকিৎসকের নিয়মিতপরামর্শ নিতে হবে।

হার্ট অ্যাটাক হলে কি করবেন?

১/ হার্ট অ্যাটাক হবার পর দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। (ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিৎসা পেতে এক ঘণ্টা দেরির জন্য মৃত্যুর হার বেড়ে যায় ১০ শতাংশ)।
২/ তাৎক্ষণিক-ভাবে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
৩/ হার্ট অ্যাটাকের পরপরই রোগীকে শক্ত জায়গায় হাত-পা ছড়িয়ে শুইয়ে দিন এবং গায়ের জামা-কাপড় ঢিলেঢালা করে দিন।
৪/ হার্ট অ্যাটাকের পর যদি আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তার কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালুর চেষ্টা করুন
৪/ হার্ট অ্যাটাকের পর রোগীর যদি বমি আসে তাহলে তাকে একদিকে কাত করে দিন। যাতে সে সহজেই বমি করতে পারে। এতে ফুসফুসের মতো অঙ্গে বমি ঢুকে পড়া থেকে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তি রক্ষা পাবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ