মেডিটেশন কি? এর উপকারিতা-পদ্ধতি-সময়

মেডিটেশন (Meditation) কি?

মেডিটেশন হল মস্তিষ্কের ও মনের একটি সম্পূর্ণ ব্যায়াম। যার দ্বারা আমরা আমাদের মানসিক শান্তির বিন্যাস খুজে পাই। আমারা আমাদের জীবনের অস্থির জীবন রেখার উত্থান ও পতনের মধ্যদিয়ে চলতে চলতে কখন যেন বাস্তব জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছি, আর সেই হারিয়ে যাওয়ার জীবন থেকে বর্তমানে ফিরে আসার অনেক পথ রয়েছে; আর সেই পথের অন্যতম পথ হল মেডিটেশন। এই মেডিটেশন এক এক ধর্মে একটি নামে অবিহিত হয়ে থাকে। যেমন- হিন্দু ধর্মে- ধ্যান (আরাধনা), ইসলাম ধর্মে - নামাজ ( সালাত), বুদ্ধ ধর্মে - ধ্যান (ত্রিরত্ন), খ্রীস্ট ধর্মে- রোজারি, শিখ ধর্মে- সিমরান (ধ্যান), ইহুদী ধর্মে- মারকাবা (Merkabah) ইত্যাদি নামে অবিহিত হয়ে থাকে। তবে প্রত্যেক ধর্মের মেডিটেশন পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। এই মেডিটেশনের দারুন উপকারিতা রয়েছে যা বর্তমানে বিজ্ঞানও স্বীকার করেছে। তাই আমাদের শরীর ও মন কে সুস্থ্য রাখতে আমাদের ধ্যান / মেডিটেশন করা খুবই জরুরী। নিচে মেডিটেশন বা ধ্যান এর উপকারিতা, কৌশল বা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হল-


মেডিটেশন কি? এর উপকারিতা-পদ্ধতি-সময়

আরও জানুনঃ Health Tips

মেডিটেশন করার উপকারিতা

আমাদের শরীর ও মন কে সুস্থ্য রাখতে আমাদের ধ্যান / মেডিটেশন করা খুবই জরুরী। নিচে মেডিটেশন বা ধ্যান এর উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হল-

সাধারণ চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা যায়: আপনি সাধারন ভাবে কোন বিষয় নিয়ে যদি আলাদা করে ১০ মিনিট ভাবেন বা ধ্যান বা মেডিটেশন করেন সেক্ষেত্রে চট জলদি আপনার সমস্যার সমাধানের রাস্তা খুজে পাবেন।

অস্থিরতা মোকাবেলা: আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার ধৈর্য বৃদ্ধি পাবে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রিত হবে ফলে অস্থিরতায় শান্ত থাকে সেই সমস্যার মুকাবিলা করতে পারবেন।

উন্নত মানসিক সুস্থতা: আপনি নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার ধৈর্য, আবেগ নিয়ন্ত্রিন, শান্ত থাকার ক্ষমতা ইত্যাদি বাড়বে ফলে উন্নত মানসিক সুস্থতা বজায় থাকবে।




মানসিক চাপ কমানোঃ মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন একটি দারুন নির্ভর যোগ্য পদ্ধতি যা ইতিপূর্বে বহুবার প্রমানিত হয়েছে।

ভালো ঘুম: যাদের বিভিন্ন টেনশনে রাত্রে ঘুমাতে পারেন না তাঁরা নিয়মিত মেডিটেশন করলে অবশ্য উপকার পাবেন।

আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি: আপনি যখন নিয়মিত সময় ধরে মেডিটেশন করবেন আপনি আপনার মধ্যে থাকে বিভিন্ন সমস্যা, ভূল, ভ্রান্তি, ত্রুতি বিচ্যুতি ইত্যাদি খুজে সেগুলি থেকে আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারবেন।

উন্নত মানসিক স্বচ্ছতা: আপনি যখন নিয়মিত ভাবে মেডিটেশন করবেন তখন আপনি আপনার মধ্যে থাকা বিভিন্ন সমস্যা, ভূল, ভ্রান্তি, ত্রুতি বিচ্যুতি ইত্যাদি খুজে পাবেন এবং তার দ্বারা আপনার মানসিক স্বচ্ছতা পাবেন।

আরও জানুনঃ বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ

ইমিউন সিস্টেম বাড়ানো: নিয়মিত মেডিটেশন করলে আমাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন উপকারি হরমন গুলি ঠিকঠাক ভাবে নির্গত হয়ে আমাদের শরীরের ইমিউনিটি ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।

ব্যাথা ব্যবস্থাপনা: নিয়মিত মেডিটেসনের ফলে আমাদের শরিরে বিভিন্ন ব্যাথা বেদনা থেকে মুক্তি পেতে পারি। যেকোনো ব্যাথার সিগনাল প্রথমে নির্দিষ্ট স্থান থেকে আমাদের মস্তিস্কে যায় তার পর আমারা ব্যাথা অনুভব করি। যদি ঠিকঠাক ভাবে নিয়মিত মেডিটেসন করি সেক্ষেত্রে অবশ্য ব্যাথা থেকে আমরা মুক্তি পাবো।

উন্নত সৃজনশীলতা: যিনি বা যারা নিয়মিত মেডিটেশন করেন তাঁরা উন্নত সৃজনশীল হয়ে থাকে, কারণ আমরা যেকোনো কাজ যখন সময় নিয়ে ধীরস্থির ভাবে করে থাকি, তখন কাজটি নিখুঁত ও সুন্দর হয়। আর যদি অতি মনোযোগ সহ বা মেডিটেশনের মধ্যদিয়ে করি কাজ টি আরও বেশী উন্নত সৃজনশীল হবে।

সামগ্রিক সুস্থতার পথ নিদর্শন করেঃ নিয়মিত মেডিটেসনের ফলে আমাদের শরীর ও মন দুই সুস্থ্য ও সবল থাকে। ফলে শরীর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া গুলি আধিপত্ত বিস্তারে অক্ষম হয়। কারণ এর ফলে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং আমরা সামগ্রিক ভাবে সুস্থ্য থাকি।


মেডিটেশন কি? এর উপকারিতা-পদ্ধতি-সময়

আরও জানুনঃ ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ-প্রতিকার-চিকিৎসা | Malaria ke Lakshan

মেডিটেশনের সঠিক নিয়ম কি? মেডিটেশন করার পদ্ধতি বা মেডিটেশন কিভাবে করে?


  • মেডিটেশন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট খোলা এবং শান্ত জায়গায় বেছে নিন।
  • মেডিটেশন করার আপনার শরীর পরিষ্কার পরিছন্ন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
  • মেডিটেশন করার জন্য সুতির ঢিলে ধালা সাদা পোশাক থাকাটা বেশি ভালো হয়।
  • আপনি যেভাবে স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করেন সেভাবে বসতে পারেন। তবে পদ্মাসন, সুখাসন, গোমুখাসন, সিদ্ধাসন ইত্যাদি যে কোনো আসনে বসাটা ভালো।
  • আস্তে আস্তে চোখ বন্ধ করুন।
  • দীর্ঘ শ্বাস নিন, তার পর আস্তে আস্তে ছাড়ুন।
  • এভাবে কয়েকবার করুন।

তবে মনে রাখবেন মেডিটেশনের কোনো বাধা ধরা নিয়ম বা সময় নেই। আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী দশ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টাও বা তারও বেশী সময় ধরে করতে পারেন। মনে রাখবেন যত বেশীক্ষণ মেডিটেশন করতে পারবেন ভাবে আপনার মানসিক ও শারীরিক লাভ পাবেন এটা নিশ্চিত।

মেডিটেশন কি? এর উপকারিতা-পদ্ধতি-সময়

আরও জানুনঃ অ্যানাফিল্যাক্সিস কি? কারণ, চিকিৎসা


মেডিটেশন করার সঠিক সময়ঃ

মেডিটেশন করার সঠিক সময় সূর্যোদয়ের পূর্বে বা বিকালে আবার সন্ধ্যায় আথবা রাত্রের শোবার পূর্বে যেকোনো সময় হতে পারে। এর কোন বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার উপর,যে কোন সময় আপনার জন্য সুবিধাজনক। মনে রাখবেন যখন আপনার কোন কাজের তাড়া থাকবে তখন না করাটা ভাল।কারন আপনি মেডিটেশনে মনোনিবেশ করতে পারবেন না।


অবশেষে, মেডিটেশনের উপকারিতা, নিয়ম বা অন্যান্য দিক গুলি যথা সম্ভাব আলোচিত হল। আশা করি আপনাদের উপকারে আসবে। দয়া করে মনে রাখবেন যে এই আলোচনায় আদার উপকারিতা ও অপকারিতা বিষদ ভাবে জানানোর চেষ্টা করা হল। আপনার এই সকল পরামর্শ গুলি যদি নিয়ম মেনে চলতে পারেন, তাহলে অবশ্য উপকৃত হবেন। তবে আমার স্বাস্থ্য ব্লগে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয় কিন্তু চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। তবে, আপনার যদি উপরের সমস্যার সম্মুখীন হন তাহলে অবশ্য অনুগ্রহ করে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। আর এই সকল তথ্য বিভিন্ন নামী অভিজ্ঞ চিকিৎসকের এবং https://en.wikipedia.org/wiki/Meditation দ্বারা উৎসায়িত ও তথ্য নির্ভর করে লেখা হয়েছে। এই সকল তথ্য আপনার যদি উপকারে আসে তাহলে আমাদের এই সকল প্রয়াস সফল হবে। যদি আপনাদের কোন আদেশ বা অনুরোধ থাকে অবশ্য করে কমেন্টে জানান। ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ