নিউমোনিয়া (Pneumonia) ব্রঙ্কলাইটিসে সারা বিশ্ব ব্যাপী প্রতি বছরে প্রায় 450 মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয় যার মধ্যে 1.4 মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। তাই এই রোগ কে কোনো ভাবে হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। শীতে প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে, নানা রকম শীতকালীন রোগও বেড়ে চলছে। তবে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় থাকে ছোট বাচ্চারা। এ সময়ে নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্ট শিশুদের জন্য বয়ে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এ দুটি রোগ ও এর প্রতিকার সম্বন্ধে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত।
১. নিউমোনিয়া লক্ষণঃ
৹ দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস - নবজাতকের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে ৬০ বার, এক বছরের মধ্যের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে ৫০ বার এবং এক থেকে তিন বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে ৪০ বার শ্বাস-প্রশ্বাস ঘটলে বুঝতে হবে তা নিউমোনিয়ার লক্ষণ।
০ বুকের খাঁচার নিচে দেবে যাবে
০ শ্বাসের সাথে নাকের ডগা ফুলে যাওয়া
০ গায়ের তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি হবে, এমনকি ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইটে উপনীত হতে পারে।
০ বাচ্চার চেহারাতে একটি ক্লান্তি ও অসুস্থতার ভাব প্রকট থাকে।
০ কাশি: রাত্রিকালীন ও ভোরের দিকে কাশির প্রকোপ বেশি হতে পারে।
০ কফ: ছোট্ট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কফ নাও বের হতে পারে।
০ বুকে ঘড় ঘড় আওয়াজ পাওয়া যেতে পারে।
০ এসব শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত স্ট্রেপটো কক্কাস, হিমোফিলাস ইনফুয়েঞ্জি ও স্টাফাইলো কক্কাস রোগের জীবাণু দ্বারা আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। কিছু ভাইরাসও জড়িত থাকতে পারে।
নিউমোনিয়া হলে যা করনীয়ঃ
০ বাচ্চার যদি খুব শ্বাসকষ্ট থাকে তাহলে হাসপাতালে নেওয়াই ভাল। তিন মাসের নিচে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কিংবা শিশুর শরীর যদি বারে বারে নীল হয়ে আসে তাহলে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
০ পারিবারিক শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
০ তবে যদি শ্বাসকষ্ট অতটা না থাকে তাহলে বাসায় চিকিৎসা করা যেতে পারে।
বাড়িতে চিকিৎসার ক্ষেত্রেঃ
০ বাচ্চার জ্বর কমাতে সিরাপ প্যারাসিটামল ব্যবহার করুন। ওজন অনুযায়ী ১৫ মি.গ্রা./কেজি/ প্রতিবার সেবনে। দিনে ৪ বার উর্ধ্বে ৬ বার পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন। প্যারাসিটামল দেওয়ার আধা ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে আধা ঘণ্টা ধরে।গা,হাত,পা,মাথা মুছিয়ে দিন।
০ নাকে নরমাল স্যালাইন ড্রপ ব্যবহার করুন, ১ ফোঁটা করে ২ নাকে ৪ বার বা ৬ বার দিয়ে পরিষ্কার রাখুন নাসিকা পথ।
০ শ্বাসটান বা বুকের আওয়াজের জন্য আমরা সিরাপ স্যালবিউটামল বা নেবুলাইজেশন মেশিনে বাষ্পায়িত স্যালবিউটামল ব্যবহার করতে পারি।
বিঃ দ্র:- যদি উপরিক্ত উপায় গুলি প্রয়োগের পর ও উপশম না হয় তাহলে অবশ্য হসপিটালে বা উচ্চতর চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হবে।
.png)



.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ