ভাইরাস জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার | viral fever home remedies

ভাইরাস জ্বর কি?

ভাইরাস জ্বর সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের সময়ে হয়ে থাকে। এর সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে ভাইরাস জ্বর, হিটস্ট্রোকসহ (মূলতঃ গরমের দিনে) বিভিন্ন রোগ। এ জন্য প্রধানত দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা ‘টাইপ 'A’ এবং ‘টাইপ 'B’-এর দুটো ভাইরাস। এই সময়ে ঋতু পরিবর্তনের সময় অর্থাৎ শীতের আগমনের যে ক্ষেপে ক্ষেপে বৃষ্টি হওয়ার কারণে এই রোগে আক্রান্ত হয় সাধারণ মানুষ।

https://asopinions.blogspot.com/


Read also

ভাইরাস জ্বরের লক্ষণঃ 


ভাইরাস জ্বরের মূলতঃ কিছু লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। যথাঃ

১/ ভাইরাস আক্রমণের ফলে দুই থেকে সাত দিন পর জ্বর হতে পারে। আবার কারও হয়তো তিন দিনেই জ্বর ভালো হয়ে যেতে পারে, কারও আবার ৭ থেকে ১৪ দিনও লাগতে পারে। এটি একটি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরা্স যা অনবরত চরিত্র বদলের ফলে এই ধরনের জ্বর এসে থাকে।

২/ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্তরা সচারাচার শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, শরীর ও গাঁটে ব্যথা, অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক ও চোখ দিয়ে জল পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হতে পারে।

৩/ অনেকের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়া হয়। আবার শিশুদের ক্ষেত্রে ভাইরাসের সংক্রমণে পেটব্যথাও হতে পারে।

Read also

ভাইরাস জ্বর প্রতিকারে করণীয় বা বাড়িতে কি ভাবে চিকিৎসা করা যায়? (Indian home remedies for viral fever):

১/ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হলে খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। কোনো অ্যান্টিবায়োটিকেরও প্রয়োজন হয় না। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল খেলেই হয়।

২/ প্রচুর পানিয় বা তরলজাতীয় পান করতে হবে যেমন- স্যুপ, ফলের শরবত, স্যালাইন, লেবুর শরবত, ডাবের পানি এবং সেই সঙ্গে বিশ্রাম নিতে হবে।

৩/ ভাইরাস জ্বর হলে খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

৪/ বড়দের ক্ষেত্রে এই জ্বর হলে স্নান করানো যেতে পারে, তবে যদি কাঁপ কাঁপ ভাব না থাকে আর খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে শরীর মুছে দেওয়া ভালো।

৫/ দরজা, জানালা ও ফ্যান বন্ধ করে ঘরকে গুমোট করে রাখবেন না। জানালা খুলে হালকা গতিতে ফ্যান ছেড়ে দেওয়া ভালো।

৬/ খাবারের মধ্যে ভিটামিন সি ও জিঙ্কযুক্ত খাবার প্রাধান্য দিতে হবে, যেমন- আনরস, আম কলা, খোসাযুক্ত ফলা খাদ্য তালিকায় রাখা ভাল। সাবধানে চলাফেলা করতে হবে।

৭/ বিশেষ করে যারা শ্রমিক, বাচ্চা এবং বয়স্কদের বাড়তি সর্তক থাকতে হবে।

৮/ এছাড়া রাস্তার খোলা খাবার পরিত্যাগ করতে হবে। বাড়িতে তৈরি খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৯/ রোগীকে সব সময় মশারির নিচে রাখতে হবে। গলা ব্যথা থাকলে হালকা গরম জল খেতে পারেন।

১০/ তবে যারা ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হবে তাদের অবশ্যই কিছুক্ষণ পর পর শরীর পাতলা গামছা বা কাপড় দিয়ে মোছাতে পারেন ও মাথায় পানি দিতে হবে। শরীর গরম হলেই থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে ওষুধ খেতে হবে। জ্বর আক্রান্ত স্থায়িত্বকাল ৪-৫ দিন। তবে জ্বরের তীব্রতা বাড়লে অবশ্যই ডাক্তারের পরার্মশ নিতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ