আকুপ্রেসার (Acupressure) কি?
আকুপ্রেসার (Acupressure) - এখন সারা পৃথিবীতে গরীব থেকে বড়ো (আর্থিক ভাবে) লোকেরা শারীরিক সমস্যা নিয়ে জেরবার, চিন্তিত। শারীর কে সুস্থ্য রাখতে আমরা ভুরি ভুরি ঔষধ খেয়েও নিস্তার নেই। এখন সকলে বিকল্প কিছু রাস্থা বাহির করার আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা। এইসবের মধ্যে আমরা যদি কিছু নতুন বা পুরানো পদ্ধতি নিয়ে কিছু কিছু রোগ সারানোর চেষ্টা করি তাহলে কেমন হয়! আজ আমরা আলোচনা করবো আকুপ্রেসার (Acupressure) চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে।
আমরা জানি যে, সুশ্রুত সংহিতার বর্ণনা অনুযায়ী- ৬ হাজার বছর আগে ভারতে আধুনিক আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। পরবর্তীকালে এই চিকিৎসা পদ্ধতি শ্রীলঙ্কা হয়ে চিনে ব্যাপক পরিচিতি পায়। আকুপ্রেসার, সুজোক, রিফ্লেক্সোলজি, জোন থেরাপি ইত্যাদি নানা নামে সারা বিশ্বে এই পদ্ধতি জনপ্রিয়তা লাভ করে।
| আকুপ্রেসার (Acupressure) চিকিৎসা পদ্ধতি |
আমরা জানি যে, সুশ্রুত সংহিতার বর্ণনা অনুযায়ী- ৬ হাজার বছর আগে ভারতে আধুনিক আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। পরবর্তীকালে এই চিকিৎসা পদ্ধতি শ্রীলঙ্কা হয়ে চিনে ব্যাপক পরিচিতি পায়। আকুপ্রেসার, সুজোক, রিফ্লেক্সোলজি, জোন থেরাপি ইত্যাদি নানা নামে সারা বিশ্বে এই পদ্ধতি জনপ্রিয়তা লাভ করে।
আকুপ্রেসার (Acupressure) কি?
মানব দেহের জীবন্ত কোষ সমূহে সুচ ফুটিয়ে বাঁ খুঁচিয়ে রোগ নিরাময়, বেদনা উপশম। বা স্থানিক অসাড়তা সৃষ্টির বিশেষ পদ্ধতি কে আকুপাংচার বলে। এই প্রায় একই রকম পদ্ধতিতে এই চিকিৎসা করা হয় সুধুমাত্র সুচের পরিবর্তে হাতের আঙ্গুলের দ্বারা হাতের ও পায়ের বিভিন্ন প্রেসের পয়েন্টে চাপ দেয়ে বিভিন্ন রোগের উপশম পাওয়া সম্ভব।
আকুপ্রেসার (Acupressure) চিকিৎসা পদ্ধতি দ্বারা কি কি উপকার পেতে পারি?
আকুপ্রেসার (Acupressure) চিকিৎসা পদ্ধতি দ্বারা দীর্ঘদিনের ব্যাথা-বেদনায়, রাতে ঘুমের সমস্যা মেটান যায়, অ্যালার্জির সমস্যায় দূর করা যায়, মাথাব্যথা, মাইগ্রেন, সাইনাস, আর্থারাইটিস, স্পন্ডলাইসিস, লিভারের সমস্যা, অ্যালার্জির মতো একাধিক সমস্যায় আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতিতে মুহূর্তের মধ্যেই মুক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়াও স্নায়ুর নানা সমস্যা, স্নায়ুর রোগ, পক্ষাঘাত, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যাতেও এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী।
সঠিক পদ্ধতি মেনে আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতি কাজে লাগাতে পারলে ওষুধপত্র ছাড়াই শরীরের একাধিক সমস্যা কাটিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব। বিশেষ করে পেশি এবং স্নায়ুর একাধিক জটিল সমস্যার সমাধানে আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতি একেবারে অব্যর্থ!
আকুপ্রেসার (Acupressure) চিকিৎসা পদ্ধতি:
| আকুপ্রেসারের (Acupressure) পদ্ধতির প্রেসার পয়েন্ট |
২/ সমস্যা গুরুতর হলে দিনে সর্বাধিক দু’বার আকুপ্রেসার চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নিতে পারেন।
৩/ সপ্তাহে ৬ দিনের বেশি নয়। যেখানে ব্যথা অনুভব করবেন সেখানেই চাপ দেবেন।
অ্যাকুপ্রেসারের কৌশল
দুটি হাতের যেকোনও একটিকে নির্বাচন করুন। সেই হাতের আঙুলগুলো মেলে ধরুন। অন্য হাতের আঙুলগুলো এই হাতের এক একটি আঙুলের ওপর মুঠো করে চেপে ধরুন। খুব জোরে চেপে ধরবেন না ,মৃদু চাপ দেবেন। মিনিট খানেক ম্যাসাজ করুন প্রতিটি আঙুলে দিনে যতবার খুশি এই ম্যাসাজ করতে পারেন।
| আকুপ্রেসারের (Acupressure) পদ্ধতির প্রেসার পয়েন্ট |
আকুপ্রেসার (Acupressure) চিকিৎসায় কোন আঙুলে কোন ম্যাসাজ করতে হয়?
উপরের ছবিটিতে আপনারা দেখতে পারছেন কোনটিকে কি পয়েন্ট বলে এবং প্রয়োগ গুলি নিছে দেওয়া হল-
প্রথনঃ বুড়ো আঙুলের সঙ্গে যোগ রয়েছে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের। বুড়ো আঙুলে ম্যাসাজ ও বুড়ো আঙুল ধরে মৃদু টান হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের বেগ হ্রাস করে। যাঁরা উদ্বেগে ভোগেন তাঁরা বুড়ো আঙুল ম্যাসাজের মাধ্যমে উপকার পাবেন।
দ্বিতীয়ঃ তর্জনীর সঙ্গে যোগ রয়েছে অন্ত্র বা মলাশয়ের। যারা পেটের গোলমাল ও কোষ্ঠকাঠিন্যে কষ্ট পাচ্ছেন তাঁরা তর্জনী ম্যাসাজ করলে উপকার পাবেন।
তৃতীয়ঃ মধ্যমা বা দ্বিতীয় আঙুল- যখনই ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব কিম্বা বমি ভাবের কারণে অস্বস্তি বোধ করছেন তখনই মাঝের আঙুলটি ধরে আস্তে আস্তে সামনের দিকে টানতে থাকুন
মিনিট খানেকের মধ্যেই উপকার পাবেন।
চতুর্থঃ অনামিকা বা চতুর্থ আঙুল- এই আঙুলের সঙ্গে যোগ রয়েছে আমাদের মন ও মেজাজের। যাঁরা অবসাদে ভোগেন বা মনখারাপের কারণে কষ্ট পান তারা যদি মিনিট খানেক অনামিকায় ম্যাসাজ করেন তাহলে উপকার পাবেন। মনে শান্তি ফিরে আসবে।
পঞ্চমঃ কড়ে আঙুল- এই আঙুলের সঙ্গে ঘাড় ও মাথার যোগ রয়েছে। এই আঙুলে মিনিট খানেক ম্যাসাজ আপনাকে ঘাড় ও মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে।
২) আকুপ্রেসার দিনে দু’বারের বেশি করা উচিত নয়।
৩) আকুপ্রেসার অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের করা একেবারেই উচিত নয়।
৪) ২ মিনিটের বেশি কোনও একটি নির্দিষ্ট ‘প্রেসার পয়েন্ট’-এ একটানা আকুপ্রেসার করা উচিত নয়।
৫) দিনে একটানা ২০ মিনিটের বেশি আকুপ্রেসার করা একেবারেই উচিত নয়।
প্রথনঃ বুড়ো আঙুলের সঙ্গে যোগ রয়েছে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের। বুড়ো আঙুলে ম্যাসাজ ও বুড়ো আঙুল ধরে মৃদু টান হৃদস্পন্দন ও শ্বাসপ্রশ্বাসের বেগ হ্রাস করে। যাঁরা উদ্বেগে ভোগেন তাঁরা বুড়ো আঙুল ম্যাসাজের মাধ্যমে উপকার পাবেন।
দ্বিতীয়ঃ তর্জনীর সঙ্গে যোগ রয়েছে অন্ত্র বা মলাশয়ের। যারা পেটের গোলমাল ও কোষ্ঠকাঠিন্যে কষ্ট পাচ্ছেন তাঁরা তর্জনী ম্যাসাজ করলে উপকার পাবেন।
তৃতীয়ঃ মধ্যমা বা দ্বিতীয় আঙুল- যখনই ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব কিম্বা বমি ভাবের কারণে অস্বস্তি বোধ করছেন তখনই মাঝের আঙুলটি ধরে আস্তে আস্তে সামনের দিকে টানতে থাকুন
মিনিট খানেকের মধ্যেই উপকার পাবেন।
চতুর্থঃ অনামিকা বা চতুর্থ আঙুল- এই আঙুলের সঙ্গে যোগ রয়েছে আমাদের মন ও মেজাজের। যাঁরা অবসাদে ভোগেন বা মনখারাপের কারণে কষ্ট পান তারা যদি মিনিট খানেক অনামিকায় ম্যাসাজ করেন তাহলে উপকার পাবেন। মনে শান্তি ফিরে আসবে।
পঞ্চমঃ কড়ে আঙুল- এই আঙুলের সঙ্গে ঘাড় ও মাথার যোগ রয়েছে। এই আঙুলে মিনিট খানেক ম্যাসাজ আপনাকে ঘাড় ও মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি দেবে।
আকুপ্রেসার (Acupressure) চিকিৎসা পদ্ধতির কিছু সতর্কতাঃ
১) কখনো খাওয়ার পর বা ভরা পেটে আকুপ্রেসার করা একেবারেই উচিত নয়।২) আকুপ্রেসার দিনে দু’বারের বেশি করা উচিত নয়।
৩) আকুপ্রেসার অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের করা একেবারেই উচিত নয়।
৪) ২ মিনিটের বেশি কোনও একটি নির্দিষ্ট ‘প্রেসার পয়েন্ট’-এ একটানা আকুপ্রেসার করা উচিত নয়।
৫) দিনে একটানা ২০ মিনিটের বেশি আকুপ্রেসার করা একেবারেই উচিত নয়।
0 মন্তব্যসমূহ