ভাইরাল জ্বর কি?
ভাইরাল জ্বর- বর্তমানে প্রত্যেক বাড়িতেই লেগেই রয়েছে। অনেক পরিবারের সব সদস্যরাই এই জ্বরে (fever )আক্রান্ত । কিন্তু সমস্যা টা কি? এর একটিই উত্তর— ‘ভাইরাল জ্বর (viral fever )’। কিন্তু কী এই ভাইরাল জ্বর? মরশুম বদলের জন্য? নাকি অন্য কিছু? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বাবুরা?
চিকিৎসক বিশ্বরূপ রায় চৌধুরীর ( B.R.C) মতে, মরশুম বদলের সময়ে এমনিতেই এই জাতীয় জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। এটি সাধারণত হয় ফ্লু ভাইরাসের কারণে। ‘ফ্লু ভাইরাস কেমন চেহারা নেবে, তা আগে থেকে পুরোটা বোঝা যায় না। প্রতি বছরই এর গড়ন বদলাতে থাকে। তাই এ থেকে হওয়া সংক্রমণ সামলাতেও সমস্যা হয়। ডাক্তার বাবুর মতে- ‘যেহেতু দিনে গরম, আর রাতে ঠান্ডা— তাই তাপমাত্রার পার্থক্যের ফলে এই জাতীয় সমস্যা বাড়ছে। আবার অনেকে গরমের কারণে অফিসে বা বাড়িতে এসি চালিয়ে দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।’ এছারা এই সময় ডেঙ্গু জ্বরের প্রচুর প্রভাব দেখা যায়। তাই সাধারন মানুষের পক্ষে এটা কি জ্বর তা বোঝা খুব কষ্টকর। অনেক সময় ডাক্তার বাবুরাও হিমসিম খেয়ে যায়, সেকারণে নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষা করাতে পরামর্শ দেন।
ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ (viral fever symptoms Or what is viral fever and symptoms/ viral fever symptoms in kids)?
ভাইরাল জ্বরের (Viral Fever) লক্ষণ সম্পর্কে জানা সকলের জন্য অপরিহার্য।
- ঘন মাথাব্যাথা করা
- চোখে জ্বলা জ্বলা ভাব হয়া
- বমি ভাব হয়া
- শরীরে দুর্বল ভাব হয়া
- মাত্রাতিরিক্ত জ্বর
- পেশীতে যন্ত্রণা
- ক্ষুধা না হওয়া
- শরীরে প্রচুর ঘাম দেওয়া
- আবার শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া
- মাথাব্যথা করা
- শরীরে পানিশূন্যতা
- শরীরে নানা রকমের ফুসকুড়ি দেখাতিতে পারে।
- পেটে ব্যথা
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। ইত্যাদি
ভাইরাল জ্বর কিভাবে ছড়ায় (How to spread viral fever)? বা ভাইরাল জ্বর কি (what is viral fever )?
ভাইরাল জ্বর সংক্রামক এবং এটি সহজেই একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়াতে পারে। সংক্রমিত ব্যক্তি যখন হাঁচে, কথা বলে বা কাশে, তখন ছোট ছোট তরল ফোঁটা বাতাসে ছড়িয়ে যায়। যদি কোনও সুস্থ ব্যক্তি এই ফোঁটারগুলির সংস্পর্শে আসে, তবে সেই ব্যক্তি ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হয়৷ ভাইরাসটি শরীরে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করার পরে, ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এটি ছড়াতে প্রায় 16 থেকে 48 ঘন্টা সময় লাগে। এই সময়ের পরে, সংক্রমণ গুরুতর হয় এবং ভাইরাল জ্বর (viral fever) হয়। তখন আপনার শরীরে হঠাৎ তাপমাত্রার বৃদ্ধি, আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ইঙ্গিত দেয়৷
বাচ্ছাদের ভাইরাল জ্বর ক্ষেত্রে কী করণীয় কি বা চিকিৎসা কি (Viral fever duration in child /viral fever symptoms in kids)?
বাচ্ছা হক বা বড় সকলের জ্বরের জন্য একমাত্র ওষুধ প্যারাসিটামল। বাচ্চার জ্বর আসলে প্রথমেই আতঙ্কিত হয়ে পড়বেন না। প্যারাসিটামল দিয়ে তিন ঘণ্টা দেখুন। যদি ওষুধ খাওয়ার পর জ্বর নামতে শুরু করে তাহলে চিন্তার কিছু নেই। ৪৮ ঘন্টা দেখুন। যদি এই সময়ের মধ্যে প্যারাসিটামল খেলে জ্বর নেমে যায়, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনওই প্রয়োজন নেই। তিনদিন একটানা জ্বর, প্যারাসিটামল খেয়েও জ্বর যদি না কমে তখনই চিকিৎসকের কাছে যান।
Read also
ভাইরাল জ্বরের চিকিৎসা (Viral fever Home Remedies):
সাধারণত, ভাইরাল জ্বরের চিকিত্সা সংক্রমণের তীব্রতা এবং প্রকারের উপর ভিত্তি করে করা হয়। ভাইরাসগুলি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিক্রিয়া দেয় না, এই কারণেই কোনও নির্দিষ্ট ভাইরাল জ্বরের ওষুধ নেই৷ এটিই এই ধরনের সংক্রমণকে মারাত্মক করে তোলে এবং ডাক্তার বাবুরা সাধারণত রোগীর দ্বারা উল্লেখিত লক্ষণগুলিকে লক্ষ্য করে। প্রাথমিক অবস্থাতে ডাক্তার বাবুরা তিন -পাঁচ দিন পর্যন্ত সাধারন চিকিৎসা করেন আর এই চিকিৎসায় সাধারনত বেশির ভাগ রোগী সুস্থ্য হয়ে যায়, যদি তিনি ভাইরাল জ্বরের আক্রান্ত হন। যে সকল প্রাথমিক চিকিৎসা গুলি আমরা অনুসরণ করতে পারি তা হল-
১) উষ্ণ স্নানঃ
ডাক্তার বিশ্বরূপ রায় চৌধুরীর মতে জ্বর হল আমাদের শরীরে এমন একটি প্রতিরক্ষা সিস্টেম যেটি শরীরে থাকা জীবাণু গুলি ধ্বংস করার উপসর্গ মাত্র। তাই জ্বর সব সময় ক্ষতি করেনা। অনেক সময় শরীরের জন্য লাভও করে দেয়। তাই উষ্ণ স্নান জলে স্নান বা গাধোয়া শরীরের জন্য ভাল। তাঁর মতে উষ্ণ স্নান জলে স্নান করলে জ্বর খুব তাড়াতাড়ি নেমে যাবে।
২) রিহাইড্রেশন
ভাইরাল জ্বর শরীরকে ডিহাইড্রেট বা শরীরে জলের মাত্রা কমিয়ে দেয় তাতে আমাদের শরীর দুর্বল হয়ে যায়। এই কারণেই ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ জল, জুস জাতীয় খাবার খাওয়া টা ভালো।
৩) তরতাজা থাকাঃ
যে কোন জ্বর এলে সবসময় নিজে কে চনমনে রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। আপনি যদি বিছানা সজ্জা বা ধরাশায়ী হয়ে যান তাহলে আপনার ইমিউনিটি সিস্টেম ঠিকঠাক কাজ করবে না। তাই আপনাকে সব সময় নিজে কে চনমনে রাখতে সচেষ্ট হতে হবে।
8) তাজা ফল খানঃ
তাজা ফলে পরিমানে ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন সহ প্রচুর পরিমাণে শরীরের উপযোগী খাদ্যগুন ভরা যেগুলি আপনার শরীরে রোগ প্রতিহত করার ক্ষমতা তৈরি করে থাকে। সেকারণে প্রচুর তাজা ফল খাওয়া টা আমাদের জন্য খুব জরুরী।
ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ (Viral Fever Symptoms) F.A.Q:
1. ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ কি?
ভাইরাল জ্বরের সাধারণ লক্ষণ হলো জ্বর, শরীরে ভারি মাথা ব্যথা, ছাঁচের ব্যথা, শরীরে শূন্যতা অনুভব ইত্যাদি।
2. কি ধরনের জ্বরও হতে পারে ভাইরাল জ্বর?
ভাইরাল জ্বরও হতে পারে ক্যাট কমন কোল্ড, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, চিকেনগানি ইত্যাদি।
3. ভাইরাল জ্বরে কিছু আরো লক্ষণ কি থাকতে পারে?
হাঁচি, সিঁদুল, গলা ব্যথা, কাশি, দুর্বলতা ইত্যাদি হতে পারে ভাইরাল জ্বরের লক্ষণ।
4. কীভাবে ভাইরাল জ্বর সনাক্ত করা যায়?
ভাইরাল জ্বর সনাক্ত করার জন্য ডাক্তার মন্তব্য আবশ্যক যাতে আপনার সন্ধান জানা যায়। ডাক্তার অবশ্যই নির্ধারণ করবেন আপনি কি ভাইরাসের মধ্যে আক্রান্ত।
5. ভাইরাল জ্বরের জন্য কি ঔষধ ব্যবহার করা হয়?
ভাইরাল জ্বরের জন্য ইবুপ্রফেন বা প্যারাসিটামল অথবা সফল প্রতিষ্ঠান-স্বীকৃত ঔষধ ব্যবহার করা হয়। তবে ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই পেতে হবে।

.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
0 মন্তব্যসমূহ