অতিরিক্ত কৃমি (worm) হলে করনীয় | কৃমি হলে কি কি সমস্যা (problems) হয় | কৃমির লক্ষণ- প্রতিকার-চিকিৎসা (solution)| কৃমি সারানোর ঘরোয়া উপায়।

কৃমি হল এক ধরনের পরজীবী প্রাণী, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে বসবাস করে এবং সেখান থেকে খাবার গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। কৃমি বহু ধরনের হয়ে থাকে। যথা- গোল কৃমি,  সুতা কৃমি, বক্র কৃমি ও ফিতা কৃমি ইত্যাদি।  এই কৃমি শিশু থেকে বড়দেরও হতে পারে। মল ত্যাগের পর মলের ওপর এ কৃমি দেখা যায়। আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে অন্তর্বাসে বা প্যান্টেও দেখা যেতে পারে। 

অতিরিক্ত কৃমি (worm) হলে করনীয় | কৃমি হলে কি কি সমস্যা (problems) হয় | কৃমির লক্ষণ- প্রতিকার-চিকিৎসা (solution)| কৃমি সারানোর ঘরোয়া উপায়।


অতিরিক্ত কৃমি হলে করনীয় | কৃমি হলে কি কি সমস্যা হয় | কৃমির লক্ষণ- প্রতিকার-চিকিৎসা | কৃমি সারানোর ঘরোয়া উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। 


কৃমি হলে কি কি সমস্যা হয় বা লক্ষণঃ

কৃমি হলে বেশ কিছু লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় বা পরিলক্ষিত হয়। যেমনঃ-

১/ তলপেটে ব্যথা।

২/ শরীর দুর্বল লাগা বা সব সময়ে ক্লান্ত লাগা।

৩/ খাদ্যে অরুচি। 

৪/ পাতলা পায়খানা।

৫/ বমি বমি ভাব।

৬/ মলদ্বারে চুলকানি।

৭/ ওজন কমে যাওয়া

৮/ সব সময়ে কাশি হওয়া ইত্যাদি।

অতিরিক্ত কৃমি (worm) হলে করনীয় | কৃমি হলে কি কি সমস্যা (problems) হয় | কৃমির লক্ষণ- প্রতিকার-চিকিৎসা (solution)| কৃমি সারানোর ঘরোয়া উপায়।


সুতা কৃমি সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন

কৃমির লক্ষণ- প্রতিকার-চিকিৎসা / প্রতিকারঃ

 কৃমি প্রতিরোধে যা করতে হবে, তা হল....

১/ বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।

২/ খাওয়ার আগে ও পায়খানার পরে ভালোভাবে হাত ধুইতে হবে।

৩/ হাতের নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখতে হবে।

৪/ খালি পায়ে না হাঁটা।

৫/ প্রতিদিন পরিষ্কার জামাকাপড় পরিধান করা।

৬/ বিছানা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

৭/ রাত্রে খাওয়ার পর ব্রাস বা ভালো করে দাঁত/ মুখ পরিষ্কার করা।

ইত্যাদি।

সুতা কৃমি সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন


অতিরিক্ত কৃমি (worm) হলে করনীয় | কৃমি হলে কি কি সমস্যা (problems) হয় | কৃমির লক্ষণ- প্রতিকার-চিকিৎসা (solution)| কৃমি সারানোর ঘরোয়া উপায়।


কৃমি সারানোর ঘরোয়া উপায় / চিকিৎসাঃ-

এই কৃমির হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে উপরিক্ত প্রতিকেরের পন্থা গুলি প্রয়োগ করতে হবে। আর যদি উপরিক্ত লক্ষণ গুলি দেখা যায় তাহলে প্রথমে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। তবে আমরা ঘরোয়া ভাবে কিছু প্রাচীন ও আধুনিক পন্থা প্রয়োগ করতে পারি। যেমন....

১) কাঁচা হলুদ:

সকালে উঠে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদও খেতে পারেন। না, দাঁত হলদে হওয়ার ভয় নেই, কারণ ভাল করে ব্রাশ অরে নিলেই হবে। কাঁচা হলুদ একাধারে জীবানু নাশক ও প্রদাহ নিবারক।

২) কুমড়োর বীজ:

কুমড়োর বীজ অনেকেই খান নানা শারীরিক সমস্যা দূর করার জন্য। কৃমি থেকে মুক্তি পেতেও কিন্তু কুমড়োর বীজ খুব ভাল একটি ঘরোয়া চিকিৎসা। কুমড়োর বীজে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে, যেগুলো আমাদের শরীরের ভিতরে বাসা বেঁধে থাকা প্যারাসাইট এবং কৃমি নাশ করতে সক্ষম। সম পরিমাণে নারকেলের দুধ ও জল মিশিয়ে তাতে এক চা চামচ রোস্ট করা কুমড়োর বীজ মিশিয়ে নিন। এবারে এই পানীয়টি সকালে উঠে খালি পেটে পান করুন। এক সপ্তাহ করে দেখুন, কৃমির সমস্যা দূর হবেই।

৩) লবঙ্গ: 

আমাদের অন্ত্রে বেশিরভাগ কৃমি ও প্যারাসাইট থাকে, যা পেট ব্যাথার কারণ হতে পারে। আপনি ঘরোয়া উপায়ে যদি এই সমস্যা থেকে মুক্তি চান তা হলে এক কাপ জলে তিন-চারটি লবঙ্গ ফুটিয়ে সেই পানীয়টি দিনে কয়েক বার পান করতে পারেন। লবঙ্গ যে শুধু কৃমি দূর করে তা নয়, কৃমির ডিমও বিনষ্ট করে। ফলে পেট ব্যথা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।

৪)  কালমেঘ গাছের পাতার রশঃ 

 শিশুদের ক্ষেত্রে চা চামচের এক চামচ ও বড়োদের ক্ষেত্রে চা চামচের দুই চামচ কালমেঘ গাছের পাতার রশ খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়।

৫) কাঁচা রসুনঃ

 সকালে খালি পেটে দুই-তিন কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়।


অতিরিক্ত কৃমি (worm) হলে করনীয় | কৃমি হলে কি কি সমস্যা (problems) হয় | কৃমির লক্ষণ- প্রতিকার-চিকিৎসা (solution)| কৃমি সারানোর ঘরোয়া উপায়।


৬) লবঙ্গঃ 

দুই একটা লবঙ্গ খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়।

৭) নিম পাতা:

যে-কোনও রকমের জীবাণু দূর করতে নিমপাতা খুবই উপকারী, একথা আমরা সবাই জানি। কাজেই বুঝতেই পারছেন, পেট থেকে কৃমি দূর করার জন্যও নিমপাতা কতটা কার্যকর। বেশ কিছুটা নিমপাতা বেটে রেখে দিন এবং একটি এয়ার টাইট কৌটোয় ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে খালি পেটে এক গ্লাস ঊষ্ণ জলের মধ্যে আধ চা চামচ নিমপাতা বাটা মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন।

৮) কাঁচা পেঁপে ও মধু:

এক গ্লাস ঊষ্ণ দুধের সঙ্গে এক চা চামচ কাঁচা পেঁপে এবং এক চা চামচ মধু মিশিয়ে সকালে খেতে পারেন। সপ্তাহখানেক টানা এই ঘরোয়া উপায়টি মেনে চললে নিজেই এর সুফলটি বুঝতে পারবেন।

৯) ALBENDAZOL বা MEBENDAZOLE দিয়ে সাধারণত শিশুর বা বড়দের কৃমির চিকিৎসা করা হয়। (অবশ্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে)।

ইত্যাদি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ